Logo
Logo
×

সারাদেশ

চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের গাড়িতে আগুন

Icon

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের গাড়িতে আগুন

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবককে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তিন বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়, সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

অভিযুক্ত হিসেবে মনির নামে স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারীকে চিহ্নিত করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে। একপর্যায়ে ভবনের কলাপসিবল গেট ভাঙার চেষ্টাও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে।

তবে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দীর্ঘ সময় পুলিশ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন ধর্ষকের বিচার নিজেদের হাতে নেওয়ার হুমকিও দেয়।

সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর সংঘর্ষ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। রাত সাড়ে ১০টার পর সংঘর্ষ বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন অলিগলি থেকে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

রাত ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আবারও টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান এবং চ্যানেল ২৪-এর রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম তামিম। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে রাত ১১টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে সেই সুযোগে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে বাকলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, অভিযুক্তকে থানায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নিয়েছি।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ব্যবহার করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন