গাজীপুরের ফাইভ মার্ডারের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গৌরদড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ফোরকানের বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি (আইসি) মো. ইলিয়াস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশকে খবর দেন। মরদেহটি উদ্ধার করে গাজীপুরের ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফোরকানের ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান মরদেহ ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। মরদেহের সুরতহাল চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অন্য একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপার থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের উপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।
পুলিশ কর্মকর্তা সেই সময় আরও বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে, চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে, অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে গাজীপুর উপজেলার কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।



