সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা ঘাট এলাকায় জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়।
বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন, মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), নাজমুল আলম খাঁন (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), মো. আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) বদরুল হায়দার (৫০)।
দগ্ধদের সহকর্মীরা জানান, মেঘনা ঘাটে অবস্থিত জেরা মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই দুপুরে তাদের নিজস্ব ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন ভিতরে একটি বিস্ফোরণ হয়। এতে ক্যান্টিনে থাকা ১২ জনের হাত, মুখ, পা পুড়ে যায়। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দুপুরে হাসপাতালে ১২ জন রোগী এসেছেন। মনির হোসেনের ২ শতাংশ, আল আমিন ২২ শতাংশ, নাজমুল আলম খাঁন ১৩ শতাংশ, সাইফুল ইসলাম ৪ শতাংশ, রামিজুল ৩ শতাংশ, মো. আমির ৮০ শতাংশ, শঙ্কর ৪৬ শতাংশ, কাউসার ৫৯ শতাংশ, তুহিন শেখ ৫ শতাংশ, ওসমান গনি ৩শতাংশ, সুপ্রভাত ঘোষ ১২ শতাংশ বদরুল হায়দার ৫শতাংশ। তাদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান,দগ্ধদের মধ্যে মোঃ আমির (২৫) শংকর(২৫) কাওছার(৩০), আল আমিন(৪৫) এ চারজন ক্যান্টিন বয়। বাকিরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা। দুপুরে রান্নার পর অসাবধানতা বসত গ্যাসের চুলা চাল ছিল। তখন কেউ একজন আগুন ধরাতেই এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জে জোনের উপ-সহকারী পরিচালক ওসমান গণি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে দগ্ধ কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দগ্ধদের হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় তলা একটি ভবনের নীচ তলায় ক্যান্টিন ছিল। ক্যান্টিনের সেখানে সেফটি করিডরে গ্যাস সিলেন্ডার রাখা ছিল। সেখান থেকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে গ্যাস লাইন রান্নাঘরে আনা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, সেই প্লাস্টিকের পাইপে লিকেজ থেকে গ্যাস জমে এ বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্যান্টিনটি চারদিক গ্লাস দিয়ে ঢাকা ছিল। ক্যান্টিনে বাতাস বাহির বা ঢোকা সম্ভব ছিল না। গ্যাস জমে বিষ্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, মেঘনা ঘাট এলাকার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।



