রূপগঞ্জে গুলি ও বসতবাড়িতে লুটপাটের ঘটনায় মামলা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, গুলি ও আহতের ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আহত রিপন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় শরিফ, সজিব ও রাজিবসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২ মে বরুনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে মামলার বাদী রিপন মিয়ার চাচাতো ভাই আলাল খাঁ-কে মারধর করে প্রতিপক্ষ শরিফ ও তার সহযোগীরা। এই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত ১১ মে (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে বরুনা মধ্যপাড়া জামে মসজিদে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক বসে।
ওই বৈঠক চলাকালীন অভিযুক্ত শরিফ (৩২), সজিব (২৪), বিপন (৪২) ও রাজিবের (২৮) নেতৃত্বে ২০-২১ জন নামধারী এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী পিস্তল, রামদা, ছেন ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ করে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে।
হামলাকারীরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির একটি ক্লাব ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে তারা বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জয়নাল আবেদীন ও নবীর হোসেনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালংকার যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় বাদীর ছোট ভাই মোমেন (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন, ফলে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে এবং ডান পায়ের ঊরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমানত খাঁ ও বেলাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
বাদী রিপন খান বলেন, সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেছে। আমরা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছেন যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বিচার সালিশ কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়।



