রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহত রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদের ছেলে। তার মৃত্যুতে আহাজারি করছেন স্বজনরা।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় নিহত রিয়াদ রশিদের বন্ধু লিমন দত্ত মৃত্যুর সংবাদটি জানান। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
লিমন দত্ত জানান, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারকে জানান তিনি।
রিয়াদ রশিদের চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ রশিদ। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরে একটি কোম্পানির চাকরি করতে রাশিয়াতে যান। গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদ রশিদসহ আরও অনেক বাংলাদেশি যোগদান করেন
তিনি আরও বলেন, রিয়াদ রশিদের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথা হয় গত ২৮ এপ্রিল। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। রিয়াদ রশিদের মরদেহের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় কী করণীয় কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের মরদেহের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ রশিদ খুবই ভালো ছেলে। সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
করিমগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এমরানুল কবির বলেন, পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।



