নরসিংদীতে পায়ুপথে দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১১:০০ পিএম
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় রামিম (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রিকশার টিউবে হাওয়া দেওয়ার মেশিনের সাহায্যে পায়ু পথ দিয়ে বাতাস দিয়ে রামিম নামে এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ মে) উপজেলার গজারিয়া বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে।
নিহত রামিম পলাশ উপজেলার গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে গজারিয়া বাজারে দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে আসে ৯ বছর বয়সী শিশু রামিম। তার দাদা আমজাদ হোসেন এ বাজারের ঢেউটিন ব্যবসায়ী এবং তার বাবা রিপন মিয়াও একই বাজারে স্যানেটারী ব্যবসায়ী। সে সুবাদে দিনের বেশিরভাগ সময়ই রামিম দাদার সাথে বাজারে সময় কাটায়।
ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে বাজারে ফয়সাল মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে যায় শিশু রামিম| পরে একই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে রিকশা চালক সবুজ মিয়া রিকশার টিউবে হাওয়া দেওয়া মেশিনের সাহায্যে দুষ্টামির ছলে শিশু রামিমের পায়ুপথ দিয়ে হাওয়া দেয়| এতে শিশুটির পেট ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সকালেও হাসছিল শিশুটি, বিকেলে লাশ। গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামে এখন শুধুই কান্না আর নিস্তব্ধতা। যে বাড়িতে সকালেও ছিল ৯ বছর বয়সী রামিমের হাসি, বিকেলেই সেখানে ফিরে এসেছে তার নিথর দেহ।
রামিমের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের দাবি দুষ্টামি নয়, এটা চরম অবহেলা ও নিষ্ঠুরতা।
রামিমের বাবা রিপন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে এভাবে মরতে হবে কখনও ভাবিনি। যারা এটা করেছে, তাদের বিচার চাই।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রাকিব আসকারী জানান, ধারণা করা হচ্ছে পায়ুপথ দিয়ে উচ্চ গতিতে বাতাস প্রবেশ করার কারণে নারীর কোনো একটি অংশ ছিদ্র হয়ে যায়। যার ফলে পেটের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়| যার কারণে তার ব্যাপক পেটব্যথা শুরু হয় এবং শ্বাস নিতে পারছিল না। আমরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দিই।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, সন্ধ্যার পর শিশুর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



