নরসিংদীর বেলাবোতে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দখলের অভিযোগ, মুসল্লিদের সংবাদ সম্মেলন
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার দুলালকান্দি এলাকার ‘খাসা বাপের বাড়ি সুন্নি জামে মসজিদ’ জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মুসল্লিরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় সাত বছর ধরে মসজিদে ইমামতি করে আসা হাফিজ মুহাম্মদ মুজাহিদকে গত ৩ রমজান থেকে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মসজিদে প্রবেশ ও ইমামতি করতে বাধা দিচ্ছে। তারা দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি—আফজল, আব্দুল মালেক ও খোকনের নাম উল্লেখ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া লালমিয়া নামের আরেক ব্যক্তির প্ররোচনার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মসজিদে তালা লাগিয়ে নিয়মিত নামাজ ও জুমার জামাত বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে এলাকার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে সীমিতভাবে নামাজ আদায় করে মসজিদ বন্ধ করে দেয় এবং অন্য মুসল্লীরা নামাজ পড়তে গেলে তাদের বাধা দেওয়া, এমনকি গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।
জমিসংক্রান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মসজিদের জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমিটি মসজিদের জন্য প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা এ বৈধ প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা আইনবিরোধী এবং একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার পরিপন্থি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মুসল্লীরা জোর দিয়ে বলেন, মসজিদ কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি সব মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত ইবাদতের স্থান। সেখানে প্রবেশ বা নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া গুরুতর অন্যায় এবং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে মসজিদের তালা খুলে দিয়ে সব মুসল্লির জন্য নামাজ আদায়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা; ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ মুজাহিদকে নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান; মসজিদ দখলের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেফতার নিশ্চিত করা; মসজিদের জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা ও মব সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী, সচেতন মহল ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



