দুদকের মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন কারাগারে
বগুড়া অফিস
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:১৬ এএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন-কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীর এ আদেশ দেন।
এর আগে, এদিন তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপি-কে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শাহজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে স্বামীর সহায়তায় ২৬ কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন।
এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করা হয় এবং এসব সম্পদের উৎস গোপন করতে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করা হয়।
এসব অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২, দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ শুনানিতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন হামিদুল আলম মিলন। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
বগুড়ার কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশের পর তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন হামিদুল আলম মিলন। ওই মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। পরে ঈদুল ফিতরের কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া চাকরিতে থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৬১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাঁর তিন বোনকেও আসামি করা হয়েছে।



