ফুলজোড়-করতোয়া-বাঙালি নদী দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙালি নদী দূষণের ঘটনায় দুই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের অননুমোদিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী এস হাসানুল হক বান্না বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানের বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙালি নদীকে পুনরায় দূষণের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন।
বেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা এলাকায় গড়ে ওঠা এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মজুমদার প্রোডাক্টস (রাইস ব্রান অয়েল) দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলছে। এতে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙালি নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে। পাশাপাশি সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। দূষণের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও। নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেলা জানায়, পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানাও করেছে। এছাড়া বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা দূষণমুক্ত রাখতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ১১টি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা অনুসরণ না করে দূষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে করতোয়া, বাঙালি ও ফুলজোড় নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
রিটে এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুই জেলার পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
বেলার আইনজীবী এস হাসানুল হক বান্না বলেন, “নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আদালতের এই রুল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
এদিকে এস আর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস কর্তৃপক্ষও পৃথক রিট দায়ের করেছে। আদালত তাদের করা রিটের সঙ্গে চলমান মামলাটি একত্রে শুনানির সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।



