বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বগুড়ার ধারাবাহিক উত্থান, অনূর্ধ্ব–১৯ ক্যাম্পে নতুন দুই মুখ
বগুড়া অফিস
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় দলে ক্রিকেটার সরবরাহের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বগুড়া। মুশফিকুর রহিম, সফিউল ইসলাম সুহাস, তানজিদ তামিম ও তাওহিদ হৃদয়দের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে বয়সভিত্তিক দলগুলোতে একের পর এক উঠে আসছে এই জেলার তরুণরা।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনূর্ধ্ব–১৯ জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন বগুড়ার আরও দুই উদীয়মান ক্রিকেটার-ইলমান হাবিব ও রিয়াদ সেখ।
সম্প্রতি ঘোষিত ৪৫ সদস্যের প্রাথমিক ক্যাম্পে জায়গা করে নিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, অনূর্ধ্ব–১৯ দল গঠনের লক্ষ্যে সারা দেশ থেকে বাছাই করা ক্রিকেটারদের নিয়ে এই ক্যাম্প আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ইলমান হাবিব বর্তমানে রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছেন। অন্যদিকে রিয়াদ সেখ বগুড়ার বীট মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুজনই স্থানীয় ইয়ং টাইগার্স ক্রিকেট একাডেমির নিয়মিত অনুশীলনকারী এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলেও খেলছেন।
এর আগে বগুড়া থেকে অনূর্ধ্ব–১৫ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন আব্দুর রহমান ইরফান, বায়জিদ বোস্তামী ও আফ্রিদি তারিক। অনূর্ধ্ব–১৭ দলে খেলেছেন আকাশ রায় ও শামস তৌফিক।
বিগত কয়েক বছরে বিসিবি আয়োজিত অনূর্ধ্ব–১৪, ১৬ ও ১৮ প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিভাগে ধারাবাহিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া জেলা। ফলে বিভাগীয় দলগুলোতেও বগুড়ার ক্রিকেটারদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। সেখান থেকেই জাতীয় দলে ওঠার পথ তৈরি হচ্ছে অনেকের।
বগুড়া জেলা দলের কোচ রিফাত হাসান বলেন, ‘এখানে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে আরও বেশি খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে যেতে পারবে।’
ইয়ং টাইগার্স ক্রিকেট অ্যাকাডেমির পরিচালক সাহেদুল ইসলাম রবি বলেন, ‘একাডেমি শুরুর পর থেকেই আমরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাচ্ছি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তারা নিজেদের উন্নত করছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলবে বলে আশা করি।’
তবে জেলা পর্যায়ে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে। বিসিবি প্রতিটি জেলায় কোচ নিয়োগ দিলেও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। অথচ বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বগুড়ার ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে স্থানীয় অ্যাকাডেমিগুলো।



