মে দিবসেও বদলায় না জীবন
নাকুগাঁওয়ের শ্রমিকদের কাছে প্রতিদিনই সংগ্রাম
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের প্রত্যয়ে প্রতি বছর মে দিবস পালিত হলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরের বহু শ্রমিকের জীবনে এই দিনের আলাদা কোনো তাৎপর্য নেই। তাদের কাছে প্রতিটি দিনই জীবিকার সংগ্রাম—কাজ থাকলে আয়, না থাকলে অনাহার।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরে সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত ও ভুটান থেকে আসা পাথরবোঝাই ট্রাক থেকে পাথর নামানো ও ভাঙার কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তীব্র গরম ও কঠিন পরিবেশের মধ্যেও পুরুষ শ্রমিকরা পাথর ভেঙে ছোট করছেন, আর নারী শ্রমিকরা মাথায় ঝুড়ি করে সেগুলো ক্রাশিং মেশিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা।
চারআলী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৫০) প্রায় দুই দশক ধরে পাথর শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। কাজের সময় পাথরের আঘাতে তিনি এক চোখ হারিয়েছেন, তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, দিনে প্রায় ১০০–১২০ সিএফটি পাথর ভেঙে ৫০০–৬০০ টাকা আয় করেন, যা দিয়েই স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়।
মে দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো দিবস নাই। কাজ না করলে টাকা নাই, সংসার চলে না।
নাকুগাঁওয়ের স্বামী পরিত্যক্তা শ্রমিক কুলসুমও একই বাস্তবতার কথা জানান। তিনি বলেন, মে দিবস জানলে কী হইবো? একদিন কাজ না করলে পরের দিন না খাইয়া থাকতে অইবো।
কৃষি শ্রমিক ইসমাঈল হোসেন বলেন, আমাদের সব দিনই এক। যত কাজ করব, তত আয় করব।
অন্যদিকে শ্রমিক শহীদুল জানান, মে দিবস সম্পর্কে তিনি না জানলেও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, তবে সে ধরনের আয়োজনের সুবিধা সব শ্রমিক পান না।
নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুন্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত না হলে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণতা পায় না। তার মতে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
এভাবে নাকুগাঁওয়ের বাস্তবতা দেখায়—মে দিবসের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শ্রমিকদের কাছে প্রতিদিনই টিকে থাকার এক কঠিন লড়াই।



