Logo
Logo
×

সারাদেশ

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর একটি কেন্দ্রে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ২০ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির বলি হয়ে প্রথম দিনেই ভেঙে গেছে তাদের স্বপ্ন।

ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভি তোফাজ্জল হোসেন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও, একটি কক্ষে থাকা ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দেয়।

পরীক্ষার্থীরা শুরুতেই বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালেও, অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয় এবং একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি তুলে ধরেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন। 

এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হবে, এমনকি অনেকে ফেল করার শঙ্কায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাহিমা আক্তার মিম জানায়, সে টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ এর প্রত্যাশী ছিল। কিন্তু এই ভুলের কারণে এখন সে বাংলা বিষয়ে ন্যূনতম নম্বর পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই অভিযোগ করেছেন নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূঁইয়া, সিয়াম হোসেনসহ অন্যান্য পরীক্ষার্থীরাও। তারা সবাই কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের অবহেলাকে এ ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।

এব্যাপারে সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান স্পষ্টভাবে বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবহেলার ফল। এ প্রশ্নপত্র ছিলো পুরোনো সিলেবাসের, অর্থাৎ এক বছর আগে যারা বাংলা বিষয়ে ফেল করেছে তাদের জন্য। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়। প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই না করায় এ বিপর্যয় ঘটেছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ শিক্ষার্থীদের।

এব্যাপারে কারারচর মৌলভি তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচি ওবায়দুল হক এর মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ উঠায় কারারচর মৌলভি তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ওবায়দুল হককে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থলে দক্ষিণ সাধারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সবার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেল প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ আমরা সবাই জেনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন