রূপগঞ্জে প্রবাসী মাসুম হত্যা মামলার আসামি শাকিল গ্রেপ্তার
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভোলাব ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান আসামি শাকিল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকায় এক যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়টি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর অপস্ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. রওনক এরফান খান।
গ্রেপ্তার আসামি হলেন- শাকিল মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে। র্যাব জানিয়েছে, সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাসুম মিয়া ও একই এলাকার রাজু আহমেদ সৌদি আরবে থাকাকালীন তাদের মধ্যে অর্থের লেনদেন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি দুজনেই দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর সেই পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে নতুন করে বিবাদ ও কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাজু ও তার সহযোগীরা মাসুমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় মাসুম মিয়া মোটরসাইকেলযোগে পাঁচদোনা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে তাওরা মধ্যপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রাজু, শাকিলসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব-১১-এর একটি গোয়েন্দা দল আসামিদের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ এবং র্যাব-১-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত মঙ্গলবার ৬টা ২৫ মিনিটে ঢাকার উত্তরা-উত্তর মেট্রো রেল স্টেশনের সামনে ‘মেট্রো ফুড কোর্ট’ এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মাসুম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত শাকিল মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাজুসহ পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



