মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা ছিন্নভিন্ন
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
কক্সবাজারে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ ইউনুছ নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের পা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের নাফ নদীর ১৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ ইউনুছ (২৬) উখিয়ার থাইংখালী ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা সবুল হকের ছেলে।
বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, সকালে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের নাফ নদীতে মোহাম্মদ ইউনুছ সহ স্থানীয় কয়েকজন জেলে মাছ ধরতে যায়। এক পর্যায়ে নাফ নদী সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে আকস্মিক বিকট শব্দে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মোহাম্মদ ইউনুছের ডান পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য লোকজন ইউনুছকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
বিজিবির এ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি এবং সীমান্ত এলাকায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল উখিয়ার বালুখালী সীমান্তে বিআরএম-২১ পিলার সংলগ্ন এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মো. সাদেক (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা হারান। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।
এছাড়া, গত ২৯ মার্চ পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামের এক রোহিঙ্গা কিশোর গুরুতর আহত হন। একইভাবে ২৬ মার্চ আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে আরেকটি বিস্ফোরণে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় চলাচল থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে, নতুবা এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
গত ২৯ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ দিনের ব্যবধানে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও পালংখালী সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৪ রোহিঙ্গা পা হারাল।



