নিকলীতে খাল খননের নামে কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খালের জায়গা দাবি করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। বাধা দেওয়ায় কৃষকদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষকরা এ ঘটনার প্রতিকার এবং অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জারইতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. আলম অভিযোগ করে বলেন, জারইতলা ইউনিয়নের রোদার পুড্ডা মৌজার ৭১৮, ৭১৯ ও ৭২৭ দাগের জমিসহ শত শত কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে।
দখল চেষ্টার নেপথ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জাকির হোসাইন।
কৃষকরা বাধা দিলে জাকির ও তার লোকজন তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বলেন, "যে জমিকে খাল দাবি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা মূলত কৃষকদের রেকর্ডভুক্ত জমি। এখানে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই।"
ইসলামী আন্দোলন জারইতলা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. মিন্নত আলী বলেন, "আমরা খাল খননের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, কিন্তু কৃষকের জমি দখল করে তা হওয়ার কথা নয়। খাল খননের নামে যারা কৃষকের জমি দখল করছে, তাদের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ।"
অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শাহ মো. জাকির হোসাইন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
"আমাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকেই এখানে খালের অস্তিত্ব দেখে আসছি। কৃষকরা সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। আমরা সেই সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে গেলেই আমাদের ভূমিদস্যু আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।"
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। "অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে দেখেছি। সেখানে রেকর্ডভুক্ত কোনো খালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।"
ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালের অস্তিত্ব না পাওয়ার কথা জানানো হলেও উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী কৃষকরা তাদের জমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



