জ্বালানি সংকটে স্থবির শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের মাঠ কার্যক্রম, বাড়ছে ভোগান্তি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে মন্থরতা নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট অব্যাহত থাকলে সরকারি সেবা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল। কিন্তু স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে সময়মতো পেট্রোল না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের মেকানিক হেদায়েতুল ইসলাম জানান, টিউবওয়েল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতিদিনই ইউনিয়ন পর্যায়ে যেতে হয়। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে। সময়মতো তেল না পাওয়ায় কাজের গতি কমে গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে এলজিইডি দপ্তরেও। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাবুদ্দৌলা বিপ্লব বলেন, সীমাবাড়ি, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির জন্য তাকে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এখন তাকে অতিরিক্ত খরচ করে সিএনজি ভাড়া করে চলাচল করতে হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এলজিইডির আরেক উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে উন্নয়ন ও মেরামত কাজ তদারকির জন্য মোটরসাইকেলের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে কাজের গতি কমে গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিযায় কাযমীর রহমান জানান, গবাদিপশুর চিকিৎসা ও খামার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদেরও একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে তারা মোটরসাইকেলে করে খামার বা কৃষকের বাড়িতে যেতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অটোরিকশা বা সিএনজি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাদের অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে ফেলছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপা পারভিন বলেন, টিউবওয়েলের সমস্যা সমাধানে প্রায়ই প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেল সংকটের কারণে সেই কাজেও বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, কৃষকদের নানা সমস্যা সমাধানে নিয়মিত মাঠে যেতে হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মজিদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সিএনজি ভাড়া করে চলাচল করতে হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত এ সংকট নিরসনে জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, খামারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগেও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ইউনিয়নে নিয়মিত দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে, যা সরাসরি সেবার ওপর প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উপজেলা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে এবং সাধারণ জনগণের সেবা প্রাপ্তিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।



