Logo
Logo
×

সারাদেশ

২৭ দিন পর উৎপাদনে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

২৭ দিন পর উৎপাদনে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা

দীর্ঘ ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এই কারখানাটি ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর দ্রুত উৎপাদন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগবে।

কারখানা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর একটি সার কারখানাকে পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনে আনতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত ৫ থেকে ৬ দিন সময় প্রয়োজন হয় সব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু করতে। সেই হিসেবে আগামী ৪ বা ৫ এপ্রিলের মধ্যে কারখানাটি শতভাগ উৎপাদনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৮০০শত মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানাটি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ জোগান দেয়। ২৭ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ চাপে ফেলতে পারত। তবে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এই কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১-৭২ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন হয়। তবে ৫২-৫৩ পিএসআই গ্যাস পেলেও সীমিত আকারে উৎপাদন চালানো সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে একাধিক শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হয় বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে সার, টেক্সটাইল সিরামিকসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। টেকসইভাবে শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে হলে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে বোরো ধানের মৌসুম চলমান, যা সার ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে ইউরিয়া সারের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় সার সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কৃষিখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্পখাতে টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে হলে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একইসঙ্গে বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। সব মিলিয়ে, ঘোড়াশাল-পলাশ সারকারখানার উৎপাদনে ফেরা দেশের কৃষি ও সার সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা না গেলে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি সারকারখানাটি ২৭দিন বন্ধ থাকায় কৃষি খাতে নেতিবাচক কোন প্রভাব পরেনি। কেননা যে পরিমাণ সারের মজুত আছে তা আগামী জুন মাস পর্যন্ত চলবে। তাছাড়া সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কারখানাটি স্থাপনের পর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কারখানাটি থেকে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষমতা রয়েছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন