বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা: বগুড়ার শিল্পপতি শিরুর জামিন নামঞ্জুর
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শিরু (৬০)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক তাসকিন আহমেদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল।
গ্রেপ্তার শিরু শেরপুর উপজেলার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আফরুজা আক্তার লিপির সঙ্গে ২০১০ সালে শিরুর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়, যার বর্তমান বয়স প্রায় ১৪ বছর। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকেই শিরু শিশুটির পিতৃত্ব অস্বীকার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালে শেরপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই নারী, যা বর্তমানে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই বছরের ২৭ আগস্ট শিরু তাকে তালাক দেন।
পরবর্তীতে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণপোষণ দাবি করে আরও একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শিরু পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নারীটি অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার করলেও পিতৃত্ব সংক্রান্ত মামলা বহাল রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিরু তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ের কথা বললেও শিরু তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ১০ নভেম্বর শেরপুর থানায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলাটির জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)। ওইদিন আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী আফরুজা আক্তার লিপি অভিযোগ করে বলেন, “শিরু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমার সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না। বিয়ের পর তালাক দিয়ে মামলা তুলে নিতে আবার বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে আমার সঙ্গে জঘন্য অপরাধ করেছেন।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল জানান, এর আগে আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তবে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার পর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



