নাফনদী থেকে ৩ নৌকা সহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদী-বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় থেকে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
শনিবার সকাল ৭টার সময় মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান।
আটক জেলেরা হল, মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের ( ৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)।
আটক জেলেদের সবার বাড়ি শাহ পরীর দ্বীপ মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ভোর ৪টার সময় তাদের ঘাটের ইঞ্জিন চালিত কিছু নৌকা নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল ৭টার দিকে বেশ কয়েকটি নৌকাকে স্পিড বোট নিয়ে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। পরে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা।
ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, আরাকান আর্মির কারণে নাফনদী-সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-নৌকার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে। তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারে সহতায় কামনা করছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। এব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সাথে আলাপ করা হচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজী হননি।
জেলে সমিতির সূত্রে বলছে, গত দেড় বছরে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে নানা সময় আরকান আর্মি সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে ধরে নিয়ে গেছে। যাদের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসেন ৭৩ জেলে। আরও ৩২টি ট্রলার ও ১৭২ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে বন্দি আছে।



