উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রত্ম ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, গবেষক হাবিবুল্লাহ পাঠান আর নেই
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ এএম
উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, প্রত্ম ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক-গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৭) আর নেই। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি।
তিনি উয়ারি-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক ছিলেন ।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত দেড় মাস আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। তাঁর ফুসফুসের ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায় চলছিল। তাকে মুখে খাবার বা ওষুধ খাওয়ানো যাচ্ছিল না। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৩৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান। তাঁর পিতার নাম হানিফ পাঠান ও মাতা মেহেরুন্নেসা। হানিফ পাঠান ছিলেন একজন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাদ সংগ্রহকারী হানিফ পাঠানই প্রথম প্রত্নস্থান উয়ারী-বটেশ্বরকে জনসমক্ষে তুলে ধরেন। পিতার হাত ধরে হাবিবুল্লাহ প্রত্নসংগ্রহ এবং গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠেন। ১৯৫৫ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াবস্থায় তিনি পিতার সাথে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলের গবেষণায় সাহায্য করা শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ করা হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে ২০০০ সালে উয়ারী-বটেশ্বর খননেন কাজ শুরু হয়।
তারা পিতা-পুত্র মিলে ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’ নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। ওই জাদুঘরে তিন হাজার বছরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এ অঞ্চলে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে দুষ্প্রাপ্য বই, ঐতিহাসিক সাময়িকী ও স্মারক।
মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
এ ছাড়া মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান ১৬টি বই লিখেছেন। এগুলো হলো- নরসিংদীর কবি সাহিত্যিক, নরসিংদীর লৌকিক খেলাধুলা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর, বাংলাদেশের লোককাহিনী, ১ম খণ্ড, নরসিংদী, বাংলাদেশের লোককাহিনী, ২য় খণ্ড, নেত্রকোনা, বাংলাদেশের লোককাহিনী, ৩য় খণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও গাজীপুরের লোকঐতিহ্য বিবাহ ও মেয়েলী ছড়া-গীত, বাংলাদেশের প্রাচীনতম বন্দর নগরী উয়ারী বটেশ্বর, বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা, ১ম খণ্ড, বাংলা প্রবাদে লোককাহিনী, উয়ারী বটেশ্বর শেকড়ের সন্ধানে, নরসিংদীর স্থাননাম উৎস ও বৈশিষ্ট্য সন্ধান, নরসিংদীর লোককবি, বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধ, সেকালের মাসিক পত্রিকা সবুজপল্লী ও বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা, ২য় খণ্ড।
মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের জানাজা শনিবার (২২ মার্চ) বাদ আসর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় বটেশ্বর স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।



