ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সমুদ্র শহর কক্সবাজার
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শুরু হয়েছে। ১৭ মার্চ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া টানা ৭ দিনের ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য মতে, রমজান মাসজুড়ে কক্সবাজার ছিল পর্যটক শূণ্য পরিস্থিতি। কিন্তু ঈদের ছুেিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ সমুদ্র সৈকতে আসবেন। যার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামি ১৯ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের ভিড় থাকবেন বলে আশা করছেন তারা।
আর এই পর্যটক বরণের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজন করা হচেছ বিশেষ অনুষ্ঠানেরও। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষে নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।
হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে এবং দিন যত গড়াচ্ছে, বুকিংয়ের চাপ ততই বাড়ছে। তারকামানের থেকে শুরু করে সাধারণ আবাসিক হোটেল সবখানেই কক্ষ বুকিং দেখা যাচ্ছে।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন হোটেলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের পরবর্তী ছুটিতে প্রতিদিন অন্তত লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন। এতে পর্যটন খাতে ব্যবসার প্রসার ঘটবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভালো রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ ঈদ উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজ ও ছাড়ের ঘোষণা দিে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছেন।
হোটেল কক্স-টুডের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার দুলা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে হোটেলের বুকিং বেশ ভালো চলছে। ১৯ তারিখ থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ঈদের মূল ভিড় হিসেবে ২৩ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
রামাদা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের পূর্ণাঙ্গ আনন্দ দিতে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন (২২ তারিখ) একটি ডিজে প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশের জনপ্রিয় একজন ডিজে শিল্পী পারফর্ম করবেন। পাশাপাশি থাকছে জনপ্রিয় স্যাক্সোফোন বাদকদের পরিবেশনা।
তিনি জানান, বিনোদনের পাশাপাশি খাবারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে গালা বুফে ডিনার, যেখানে দেশি-বিদেশি নানা স্বাদের খাবার পরিবেশন করা হবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিথিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম এবং গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো পর্যটক অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন না হন। এ লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে।



