কালবৈশাখীতে ব্রহ্মপুত্রে নৌকা চাপায় প্রাণ গেল মিন্টু মিয়ার, নিখোঁজ ফরিদ
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা চাপায় মিন্টু মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ফরিদ হোসেন (৩২) নামে আরেকজন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কড়াইবরিশাল ইউনিয়নের গাজীরপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিন্টু মিয়া ওই এলাকার শাহার উদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজ ফরিদ হোসেন ইসহাক আলীর ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে বাঁধা নিজেদের নৌকা দেখতে যান মিন্টু মিয়া ও ফরিদ হোসেন।
ঝড়ের তীব্রতায় ঘাটে বাঁধা একটি নৌকার দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে সেটি মিন্টু মিয়ার শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ফরিদ হোসেন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন বলে স্থানীয়রা জানান।
নিখোঁজ ফরিদ হোসেনকে উদ্ধারে স্বজন ও স্থানীয়রা রাত থেকেই নদীতে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙ্গুর মিয়া বলেন, ঘাটে বাঁধা নৌকা দেখতে গিয়ে তাঁরা আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়েন। একটি নৌকা মিন্টু মিয়ার ওপর পড়ে গেলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ফরিদ হোসেন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
রোববার সকাল ৯টার দিকে মিন্টু মিয়ার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “টর্নেডোর কবলে পড়ে মিন্টু মিয়ার হাত–পা ভেঙে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় তাঁর মরদেহ দূরবর্তী স্থানে নৌকার নিচে চাপা পড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং শেখ ফরিদ নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর অনুসন্ধান চলছে।”



