Logo
Logo
×

সারাদেশ

থানায় মা-মেয়েকে নির্যাতন ও জেল, পেকুয়া থানার ওসিকে আদালতে তলব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:২০ এএম

থানায় মা-মেয়েকে নির্যাতন ও জেল, পেকুয়া থানার ওসিকে আদালতে তলব

বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে থানার ভেতরে মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমকে তলব করেছেন আদালত। কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এক আদেশে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে ওসিকে সশরীরে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা বেগমের অভিযোগ, ২০১৩ সালে জুবাইদার বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার আদায়ে তারা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় পেকুয়া থানাকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পল্লব কুমার ঘোষ প্রতিবেদন দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

টাকা নেওয়ার পরও জুবাইদার বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে মা-মেয়ে টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি তারা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।

গত ৪ মার্চ (বুধবার) টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মা-মেয়েকে থানায় ডাকে পুলিশ। রেহেনার অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় যাওয়ার পর এসআই পল্লবসহ পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রচণ্ড মারধর করেন। জখম অবস্থায় তাদের সামনে হাজির করা হয় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইউএনওর কাছে সাহায্যের আকুতি জানালেও তিনি উল্টো সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া ওই সাজাকে চ্যালেঞ্জ করলে গত ৭ মার্চ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলমের আদালত সেই সাজা বাতিল করে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং শরীরে পুলিশের নির্যাতনের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ওসির ব্যাখ্যা তলব করেছেন। ১৬ মার্চের মধ্যে ওসিকে লিখিত ব্যাখ্যার পাশাপাশি ঘটনার দিনের সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলার নথি, আটকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডিউটি রোস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজের সত্যায়িত অনুলিপি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন বলেন, একজন বিচারপ্রার্থী নারী ও তার সন্তানের ওপর এ ধরনের বর্বরতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের শাসনের পরিপন্থি। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এই তলব করায় ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন