Logo
Logo
×

সারাদেশ

মায়ের কবরে শায়িত সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খান

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

মায়ের কবরে শায়িত সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খানকে (৮৫) নিজ জন্মভূমি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের কবরে দাফন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি.... রাজিউন)। কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করলে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরে আসেন। রবিবার রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরহুমার জানাজায় নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার, নরসিংদী আদালতের সাবেক পিপি আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মরহুমের আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরাও জানাজায় অংশ নেন।

দাফন শেষে মরহুমের স্ত্রী সমাজকর্মী মালেকা খান, মেয়ে সুমনা শারমীন এবং ছেলে নওশাদ আলী খানকে সমবেদনা জানান নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন ও নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহীসহ জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও গুণী একজন বুদ্ধিজীবী। তিনি তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা উভয় ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি শুধু নরসিংদীর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব বলে জানান জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিরা।

তারা আরও বলেন, আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও তিনি ছিলেন বিচক্ষণ বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাড়ি ছিল আমাদের আশ্রয়স্থল। এছাড়াও তারা সাখাওয়াত আলি খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। ওনার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং পরিবার ও নরসিংদীবাসী হারিয়েছে একজন অভিভাবক। 

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান চলা-ফেরা, লেখনী ছাড়াও কোনোভাবে যদি জীবদ্দশায় কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তার জন্য ক্ষমা এবং বাবার জন্য সকলের কাছে দোয়া চান ছেলে নওশাদ আলী খান।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওয়াজেদ আলী খান। শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রায় এক দশক বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরে পাঁচ বছর সেখানে সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি একই বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এছাড়া অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৫টি দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তার ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবেও একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন