কটিয়াদীতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে দোকান নির্মাণ, সরেজমিনে মিলেছে দখলের চিত্র
কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈধ মালিকানাধীন জমিতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ, সীমানা পিলার উপড়ে ফেলা ও স্থাপনা ভাঙচুরের মাধ্যমে জমি দখল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই জমি দখলের সময় পাশের টেলিফোন ভবনের সরকারি সম্পত্তির একটি অংশও দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে কটিয়াদী টেলিফোন ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নতুন করে একটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দোকানঘরের সামনে মোহাম্মদ কবির মোল্লার নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়, যা দখল নিয়ে চলমান বিরোধকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী চাঁন মিয়া জানান, তিনি কটিয়াদী উপজেলার ভোগপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে। কটিয়াদী মৌজার আর.এস. দাগ নম্বর ৫১৩-এর ৩ শতাংশ জমি তিনি ও তার ভাইয়েরা পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি তাদের পিতার নামে সাফকাওলা দলিল ও আর.এস. রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, কটিয়াদী পৌরসভার বাগরাইট হালুয়াপাড়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ কবির মোল্লা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করেন। কবির মোল্লা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে বাচ্চু, শহীদ, শামীম ও পাভেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে প্রবেশ করেন।
চাঁন মিয়ার দাবি, অভিযুক্তরা সেখানে থাকা একটি ঘর ভেঙে ফেলে, সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে এবং সীমানা পিলার উপড়ে দেয়। তিনি বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
তিনি আরও জানান, একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কটিয়াদী টিএনটি অফিসের সামনে তাকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করতে উদ্যত হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
চাঁন মিয়া বলেন, ঘটনার পর তিনি কটিয়াদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু এরপরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন গভীর রাতে জমিতে বালু ভরাট করে জোরপূর্বক দখল নেয় এবং ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে তাকে তার নিজের জমিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, জমি দখলের সময় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর কটিয়াদী টেলিফোন ভবনের সরকারি জায়গার একটি অংশও দখল করে নেওয়া হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলার বিটিসিএল দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জমি দখলের সময় টেলিফোন ভবনের সরকারি সম্পত্তির কিছু অংশও দখল করা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদের জন্য লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। জায়গা নিয়ে কবির মোল্লা ও চাঁন মিয়ার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।”
মূল অভিযুক্ত কবির মোল্লা প্রবাসে থাকায় তার ম্যানেজার হানিফ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাগজপত্র ঠিক আছে। কাগজপত্র না থাকলে কি আমার মালিক দোকান নির্মাণ করতেন?” তবে রাতের আঁধারে অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাণনাশের আশঙ্কা নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



