ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা ও অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল।
প্রশাসনিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার অংশ হলেও প্রবেশপথ মূলত চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমি দখল করে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। যৌথবাহিনী সকাল থেকেই এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে কঠোর তল্লাশিচৌকি বসায়। অতীতে অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার শিকার হওয়ায় এবার ভিন্ন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে বিশাল বহর।
জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য নতুন নয়। গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের বাহিনীর হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় চারজন র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হলেও পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বছরের ৪ অক্টোবর ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর গোলাগুলিতে একজন নিহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন।
সরকার ২০২২ সালে এই খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ ও ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। তবে স্থানীয় দখলদার ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধায় উচ্ছেদ অভিযান বারবার ব্যাহত হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানিয়েছেন, অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল এবং গ্রেপ্তার বা উদ্ধারের তথ্য পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।



