অধিগ্রহণের অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে প্রকৌশলীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমানসহ তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নীলকুঠির মেশিনঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন ভাইয়ের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেছেন আহত প্রকৌশলী। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলো- রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ গ্রামের নামাপাড়া এলাকার ফায়েজ উদ্দিন (৫৬), আফিল উদ্দিন (৫০) ও রাফি উদ্দিন (৪৮)। এর মধ্যে আফিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। সোমবার দুপুরে নীলকুঠির মেশিনঘর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের কাজ করছিলেন লাইনম্যান সোহেল মিয়া। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিয়ে কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই অভিযুক্তরা তাঁর গাড়িচালক বাচ্চু মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে আফিল উদ্দিন লোহার রড দিয়ে সাইফুর রহমানের মাথায় আঘাত করেন, এতে তাঁর হেলমেট ভেঙে যায়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে গাড়িচালকসহ অন্যদেরও মারধর করা হয়। পরে আহতরা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং থানায় মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অভিযুক্তরা জমির অধিগ্রহণমূল্য পেয়েছেন। তবে জমিতে থাকা স্থাপনার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।
লাইনম্যান সোহেল মিয়া বলেন, আমি মহাসড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কাজ করছিলাম। এ সময় তিনজন ব্যক্তি এসে আমাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করেন। একপর্যায়ে তারা আমার গলায় দা ধরে হুমকি দেন। তারা বলেন, সরকার তাদের জমির মূল্য দেয়নি, তাই সেখানে কোনো কাজ করতে দেবেন না। কাজ করলে মারধর ও হত্যার হুমকিও দেন।
আহত উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, এর আগে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক-২ মো. মাহবুব-এ-এলাহী জানান, গত ২০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাহমুদাবাদ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তখনও অভিযুক্তরা বাধা দিয়েছিলেন। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, হামলার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে এবং এতে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এঘটনায় এক জমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



