ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমে ‘জিরো এরর’ ঘোষণা চট্টগ্রামের ডিসির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৫ এএম
চট্টগ্রাম জেলায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের প্রস্তুতিতে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রবিবার( ১ মার্চ) সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর বার্তা দেন—তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
জেলা প্রশাসক আজ নিজেই কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্সের বাসায় গিয়ে তিনি তথ্য ফরম পূরণের অগ্রগতি দেখেন। পরে নুর বক্স এই প্রতিবেদককে বলেন, “কখনো ভাবিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য যাচাই করতে ডিসি স্যার আমার বাসায় আসবেন। তাঁর আচরণে আমরা মুগ্ধ।”
রমজান মাস হওয়ায় আপ্যায়ন করতে না পারার কথা উল্লেখ করলে জেলা প্রশাসক তাঁদের আশ্বস্ত করেন—রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল দায়িত্ব।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রত্যেকটি পরিবার কেমন অবস্থায় আছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আমরা রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে চাই। সেই লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে, পরে ধাপে ধাপে সবাই এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে।”
তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এক পর্যায়ে রোকেয়া বেগম নামের এক নারী তথ্য দিচ্ছিলেন। তাঁকে জেলা প্রশাসক জিজ্ঞেস করেন, কেন তাঁকে কার্ড দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে ধারণা আছে কি না। পরে সহজ ভাষায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আপনি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন, তাহলে রাষ্ট্র আপনাকে সহায়তা করবে। তবে অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো ভুল বা বাড়তি তথ্য দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যুগে ভুল তথ্য দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা ‘জিরো এরর’ চাই। কোনো প্রকার বানানো বা অনুমানভিত্তিক তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।”
৯০০ কর্মীর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম
জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, “দেশের স্বার্থে কিছু কষ্ট স্বীকার করতেই হবে। আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছি—এই কার্যক্রমে কোনো ভুল থাকবে না।”
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ঐতিহাসিক নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার মতোই এই প্রকল্পও সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য। ‘পারব না’ নয়—আমাদের বলতে হবে, ‘আমাদের পারতেই হবে।



