নরসিংদীতে ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, সাত আসামি ৮ দিনের রিমাণ্ডে
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
নরসিংদীতে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার ৭ জনের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে শুনানি শেষে নরসিংদী দ্বিতীয় আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে শুক্রবার সাবেক মেম্বারসহ ৫ জন এবং শনিবার নূরা ও হযরত আলী দুই আসামিসহ দুদিনে মোট ৭ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ওমর কাইউম।
জানা গেছে, সকালে আলোচিত আমেনা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত ৭ আসামিদের জেল থেকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আসামিদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হলে দ্বিতীয় আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ওমর কাইউমকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে বাদী পক্ষে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী দাঁড়ায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নূরার নেতৃত্বে আসামি এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০) ও গাফফার (৩৭) তরুণী আমেনাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সাথে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার কাছ থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেতে ফেলে রাখে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা দেখে পুলিশকে জানালে মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতয়ালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। হত্যার এঘটনায় আমেনার মা ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর পুলিশ জেলা ও জেলার বাহিরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নূরাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।



