স্ত্রীর নেতৃত্বে নির্যাতন, ব্যবসায়ী হারুনকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার ব্যবসায়ী এবং খেলাঘর সংগঠক হারুনুর রশিদকে স্ত্রীর নেতৃত্বে ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার সদর আদালতে হারুনের ভাই সাইফুদ্দিন খোকন বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্তকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, হারুনুর রশিদের স্ত্রী আফরিনা আলমাছিন ডলি, ডলির ভাই রুবেল ও অরুন, ডলির ভগিনীপতি নাহিদ রেজা খান ও ফজল কাদের।
কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়ার মরহুম আবু তাহেরের ছেলে ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ গত ৩ জানুয়ারি রাতেই হারুন অর রশিদ কক্সবাজার সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের মৃত্যু বরণ করেন। এটা হৃৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু কথা প্রচার রয়েছে।
মৃত্যুর ১ মাস ২৩ দিনে এসে আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, হারুনুর রশিদের স্ত্রী আফরিনা আলমাছিন ডলি, তার ভাই, ভগ্নিপতি এবং জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তার প্ররোচনায় বাদির ভাইয়ের কাছ থেকে প্রায়শ অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারীভাবে টাকা দাবি করে আসতো। গত ২ জানুয়ারি আফরিনা আলমাছিন ডলি থাইল্যান্ড ভ্রমণে যাওয়ার জন্য স্বামী কাছে ৭০ লাখ টাকা দাবি করেন।
হারুন থাইল্যান্ডের পরিবর্তে সৌদি আরব হজ করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনের উপর নির্যা তন শুরু করা হয়। রাতে ডলি তার ভাই ও ভগ্নিপতিদের ডেকে এনে হারুনুর রশিদকে জমি ও অর্থ সম্পদ লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। রাতে সবাই মিলে হারুনকে শরীরের বুকের উপর বসে বুকে, গলায় হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ঘুষি মারে। যার প্রত্যক্ষদর্শী বাড়িতে থাকা কর্মচারীর মো. সিফাত হারুনকে রক্ষার চেষ্টা করলে সিপাতকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এতে সিফাত দেওয়ালে পড়ে মাথা ফেটে যায়।
এর এক পর্যায়ে হারুনের কাছ থেকে বাড়ি থাকা ১২ লাখ টাকা নিয়ে নেন এবং ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের একাধিক চেকে স্বাক্ষর আদায় করেন। নির্যাতনের সময় হারুন চিৎকার করায় সাউন্ডবক্সে উচ্চ স্বরে বাজানো হয় গান। এতে বিবস্ত্র হারুন অজ্ঞান হয়ে যায়। সিফাত তার কর্তা হারুনকে একটি লুঙ্গি জোগাড় করে এনে পরিধান করায়। ৩ জানুয়ারি সকালে সিপাত, স্থানীয় এলাকার লোকজনকে ডেকে ভাইয়ের খবর দেন। উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার শহরের ইউনিয়ন হাসপাতালে নিয়ে যান। ওখানে হারুনকে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে লেখা হয়, হারুনকে হাসপাতালে ভর্তির খবর জানাজানি হলে ডলি মো. সিফাতকে সকাল ১০টার দিকে নতুন বাহারছড়াস্থ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার মজুমদারের কাছে নিয়ে মাথায় সেলাইয়ের ব্যবস্থা করে এবং ঘটনার বিষয়ে মুখ না খোলার জন্য তাকে চাপপ্রয়োগ ও হুমকি
প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে রাতে হারুনের মৃত্যু হলে মরদেহ দ্রুত এনে সকালে দাফন করা হয়।
এর মধ্যে সিপাতকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যে পালিয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওখানে সিপােতের পিতাকে হুমকি দেয়া্ হয়। যার প্রেক্ষিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সদর থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি করে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন সিপাতের পিতা নেজাম উদ্দিন। একই সঙ্গে হারুনের মরদেহ গোসলকারী প্রতিবেশীরা হারুনের শরীরের আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা প্রচার করে।
মামলার বাদি সাইফুদ্দিন খোকন জানান, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি জানাজানি হলেও প্রয়োজনীয় স্বাক্ষীদের সাথে আলাপ, গোলসকারীদের সাথে আলাপ সংগ্রহসহ তা মিলিয়ে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।
এটা পরিকল্পিত হত্যার দাবি করে তিনি বলেন, ইতিমেধ্যে অভিযুক্তরা হারুনের মৃত্যুর সংবাদ গোপন করে আদায় করা স্বাক্ষর যুক্ত চেক দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা্ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এটা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।
বিষয়টি নিয়ে সিপাত ও তার পিতা নেজাম উদ্দিনের সাথে আলাপকালে ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছেন।
তবে হারুনের স্ত্রী আফরিনাকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী জীবিত থাকতে এমন কোন বিষয় তো বলেননি। এমন অভিযোগ মিথ্যা। মুলত আমাকে, আমার দুই কন্যা ও এক পুত্রকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চান স্বামী ভাই-বোন সহ স্বজন। এর জন্য নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি অভিযোগ সহকারে কক্সবাজার সদর থানাকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হিমেল রায় জানান, আদালতের মামলাটি তিনি শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতে পাননি। হাতে পেলে আদালতের আদেশ মতে ব্যবস্থা নেন।



