নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার ৭
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুর মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে অপর আসামী হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে গত দুইদিনে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তরুণীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
গতকাল শনিবার সকালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক।
এসময় পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনাটির পরপরই পুলিশ অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এজহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের সাথে জড়িত ৪ জন এবং গ্রাম্য সালিশে সহায়তাকারী ৩জন সহ ৭ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকী দুই পলাতক আসামীকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। নূরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনাও করেছিল বলে গ্রেপ্তারের সময় জানিয়েছে। এসময় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ কলিমুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকারসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃত ৫ আসামীকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রবিবার (১ মার্চ) রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামী নূর মোহাম্মদ নূরা ও অপর আসামী হযরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সেখানেও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
এর আগে বুধবার রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতেৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া মহিষাশুড়া ইউপি’র সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দলীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে আমেনাকে ধর্ষণ শেষে নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে মাধবদী এবং নরসিংদী এলাকার সর্বস্তরের লোকজন।



