রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন ও ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের অবরোধ
রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১০ পিএম
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা; আটকা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামের কারখানায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। মালিকপক্ষ পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের হুমকি, আটকে রাখা ও ছাঁটাইয়ের অভিযোগও তোলেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই মালিকপক্ষের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছিল।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। অভিযোগ আছে, বাকি শ্রমিকদের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এতে ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাইরে থাকা শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
কারখানার ভেতর ও বাইরের বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপর আরও বড় সংখ্যায় শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং বিভাগের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে। প্রতিবাদী শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। রমজান মাসে বকেয়া বেতন না পেয়ে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা; দোকানি ও বাড়িওয়ালাদের চাপও বাড়ছে।
সড়ক অবরোধের ফলে দূরপাল্লার যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে। কয়েক স্থানে শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে একাধিক দফা আলোচনায় বসেন।
যানবাহন চালক ও যাত্রীরা বলেন, রমজানে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল।



