Logo
Logo
×

সারাদেশ

পদ্মা-মেঘনায় দুই মাসের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু, কর্মহীন প্রায় ২ লাখ জেলে

Icon

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

পদ্মা-মেঘনায় দুই মাসের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু, কর্মহীন প্রায় ২ লাখ জেলে

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে টানা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। ফলে ভোলার সাত উপজেলার প্রায় দুই লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৪১২ জন, দৌলতখানে ২৪ হাজার ৩ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৮৩৮ জন, তজুমদ্দিনে ১৯ হাজার ৫৭২ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন, চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ৩১১ জন এবং মনপুরায় ১৫ হাজার ৩৪১ জন জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯০ হাজার ২০০ জেলে পরিবারের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে সদর উপজেলার শিবপুরের ভোলার খাল ও ধনিয়ার তুলাতুলি মেঘনা তীরে গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে সারি সারি নৌকা-ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছেন জেলেরা। অনেকে ট্রলার নিরাপদ স্থানে রেখে ইঞ্জিন ও জাল নামাচ্ছেন, কেউ জাল মেরামত করছেন। প্রস্তুতির ব্যস্ততা থাকলেও মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট।

জেলেরা জানান, চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় আগের দেনা শোধ হয়নি, বরং সুদ বেড়েছে। রমজান মাস চলছে, সামনে ঈদুল ফিতর—এ অবস্থায় দুই মাস কর্মহীন থাকায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তারা বলেন, অভিযানের সময় মাসে ৪০ কেজি চাল দেওয়া হলেও তা অনেক সময় দেরিতে পাওয়া যায়। শুধু চাল দিয়ে সংসার চলে না বলেও দাবি করেন তারা।

জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম সপ্তাহেই যেন সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং এ সময়ে এনজিও ও অন্যান্য ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তাদের ভাষ্য, ঘরে অভাব বাড়লে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নদীতে নামতে পারেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, অভিযান সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস প্রতিজন জেলে মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল পাবেন। অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই চাল বিতরণ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভোলার ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। জেলেদের ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবির বিষয়টি জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে ইলিশের মোট ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মধ্যে ভোলায় রয়েছে দুটি—মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী এলাকা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন