মাধবদীতে ধর্ষণ ধামাচাপা দিতে কিশোরী হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এএম
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আহম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) এবং হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরের ছেলে গাফ্ফার (৩৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিচার চেয়ে পরিবারটি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়। সেখানে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় রফাদফার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সমঝোতা না হওয়ায় পরিবারটিকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বুধবার রাতে কাজ শেষে মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত আহম্মদ আলী দেওয়ান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে বিএনপিতে সক্রিয় হন।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দলের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।



