নির্দিষ্ট রেটে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রেটে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুস, নকল উঠানো ও দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক টাকা আদায়কে নিয়মে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, দলিল প্রতি ২০০ টাকা, নকল উঠানো বাবদ ৩৫ টাকা এবং তিনশত দলিল লেখকের কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়নের নামে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া বদলির নামে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অর্থ আদায়ে তাকে সহযোগিতা করেন অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেব।
গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি সটকে পড়েন। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে অফিসের তথ্য অনুযায়ী অভিযানের সময় তিনি বরিশালেই ছিলেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, “একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি প্রকাশ্যে ঘুস বাণিজ্য করেন, তবে তার অধীনস্থরা একইভাবে দুর্নীতি করবে—এটাই স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুদক যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”
অভিযোগ রয়েছে, মোহছেন মিয়া বদলি ও পদোন্নতির বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ দিলিপ চন্দ্রকে মোহরার পদে পদোন্নতি দিতে ১০ লাখ টাকা এবং আগৈলঝাড়া অফিসের সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরাকে পদোন্নতির জন্য ৮ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অবসরে যাওয়া এক কর্মচারীর পেনশনের টাকা তুলতে চার লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত এ কর্মকর্তাকে বদলি না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।



