মায়ের মৃত্যুর দুদিন পর ফের প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাবার জানাজায় ২ ভাই
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮) দুই ভাই। গত ২১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরে অংশ নিয়েছিলেন মায়ের জানাজায়। আর সেই শোক কেটে না উঠতেই মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আবারও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে পুলিশ পাহারায় যেতে হয়েছে নিজ এলাকায়। এবার অংশ নিয়েছেন বাবার জানাজায়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের বাবা নুর আহমদের জানাজা। এরপর স্থানীয় কবর স্থানে হয়েছে দাফন। যে মাঠে গত ২১ ফেব্রুয়ারি হয়েছে মা মোস্তফা বেগমের জানাজা। আর দাফনও হয়েছে একই কবর স্থানে।
ফরিদুল ও ইসমাইল গত আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে বন্দিজীবন কাটছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। যার কারণে ৫ আগস্টের পর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগম (৮০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় দুই ভাইকে। দুপুরে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশি পাহারায় বাড়িতে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে তুলে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় তাদের দুই হাতেই হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার সঙ্গে দড়ি বেঁধে তা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরা অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর দুদিন পর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মারা যান তাদের বাবা নুর আহমদ। যথারীতি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিতে এলাকায় যান দুই ভাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মায়ের জানাজার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ গ্রামবাসীকে সতর্ক করে দেয়- কেউ যেন দুই ভাইয়ের ছবি তুলে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে কোনো আসামির নিকটাত্মীয় মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়। তারা আর কোনোদিন কারাগার থেকে বের হবারও সুযোগ পাবে না। এ পরিস্থিতিতে বাবার জানাজার দিন গ্রামবাসীর কড়া নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, আমরা পুলিশ ও সাংবাদিক উভয় সংকটে পড়েছি। মায়ের জানাজায় হাতকড়া থাকার ছবি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। আবার বাবার জানাজায় হাতকড়া দৃশ্যমান থাকলে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। অথচ সাংবাদিকদের পেশাগত কারণে ছবি দরকার। আর হাতকড়ার ছবি যাতে গণমাধ্যমে না আসে সেই জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



