রাজশাহীতে রেললাইনে ৪৭ নাটবল্টু উধাও, এক কিলোমিটার পথেই বড় ঝুঁকি
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
রাজশাহীতে ট্রেন গর্জে উঠলেই কেঁপে ওঠে রেললাইনের জয়েন্টগুলো। সেই ধাতব শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। একটি নাটবল্টু কম মানেই চলন্ত ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রীর জীবনে বাড়তি ঝুঁকি। প্রতিদিন এ পথে লোকাল ও আন্তঃনগর মিলিয়ে ১৭টি ট্রেন চলাচল করে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ২৫৮/১ থেকে ২৫৯/০ কিলোমিটার অংশে সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫৯টি জয়েন্টে থাকার কথা ২৩৬টি নাটবল্টু। সেখানে রয়েছে মাত্র ১৮৯টি। অর্থাৎ ঘাটতি ৪৭টি। এই এক কিলোমিটার পথ যেন গোটা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেললাইনের দুটি অংশকে একত্রে ধরে রাখে ‘ফিস প্লেট’। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি জয়েন্টে চারটি করে নাটবল্টু থাকার কথা। কিন্তু কোথাও তিনটি, কোথাও দুটি, আবার কোথাও একটি নাটবল্টু দিয়েই চলছে ট্রেন। একটি জয়েন্টে যদি মাত্র একটি নাটবল্টু থাকে এবং সেটিও দুর্ঘটনাবশত খুলে যায়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
উল্লিখিত অংশে রেললাইনের উত্তরপাশে রয়েছে ৩১টি জয়েন্ট। সেখানে থাকা উচিত ছিল ১২৪টি নাটবল্টু, রয়েছে ১০২টি। ঘাটতি ২২টি। দক্ষিণপাশে ২৮টি জয়েন্টে থাকার কথা ১১২টি নাটবল্টু, আছে ৮৭টি। ঘাটতি ২৫টি।
দক্ষিণ পাশে রেললাইন ভেঙে নতুন করে করা চারটি জয়েন্টের মধ্যে তিনটিতে রয়েছে তিনটি করে নাটবল্টু। উত্তর পাশে ভাঙনের কারণে তৈরি সাতটি নতুন জয়েন্টের পাঁচটিতেও একই অবস্থা। সম্প্রতি রেল ব্রিজের কাছে লাইন বাঁকা হওয়া ঠেকাতে মাটিতে পুঁতে দেওয়া কাঠ ও রেললাইনের অংশও চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু জয়েন্টে লোহার তার বা পলিথিনের দড়ি দিয়ে নাট ও বল্টু আটকানো হয়েছে। রেলওয়ের চাবিম্যানদের দাবি, অনেক নাটবল্টুর থ্রেড নষ্ট। কিছু ফিস প্লেটের ছিদ্র বড় হয়ে গেছে, ফলে ঠিকমতো আঁটানো যায় না। ট্রেন চলার সময় জয়েন্টে চাকা পড়লেই বিকট শব্দ শোনা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চাবিম্যান বলেন, একাধিকবার অফিসে ঘাটতির কথা জানানো হয়েছে। নষ্ট নাটবল্টু জমা দিলে নতুন দেওয়া হয়, কিন্তু সেগুলোর মান ভালো নয়। কয়েকবার টাইট করলেই প্যাঁচ কেটে যায়। দুর্বল মানের কারণে প্রতিদিন অতিরিক্ত নজরদারি করতে হচ্ছে তাদের।
এই এক কিলোমিটার অংশের মধ্যেই একটি রেলওয়ে ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজের দুই পাশের লাইনে দুটি করে জয়েন্ট আছে। সেখানে চারটি করে নাটবল্টু থাকার কথা থাকলেও পশ্চিম পাশের দুই জয়েন্টে আটটির জায়গায় রয়েছে ছয়টি। ফলে পশ্চিম দিক থেকে ট্রেন ব্রিজে ওঠার সময় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ব্রিজের কাঠামোও বাতা দিয়ে আটকানো, ট্রেন উঠলেই তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো কাঠামো।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডিভিশনাল এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বীরবল মন্ডল বলেন, ফিস প্লেটের নাটবল্টুর সংকট চলছে। চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। হাতে পেলেই তা বসানো হচ্ছে।



