শেরপুরে প্রিমিয়ার এলপি গ্যাসের সাব ডিপো বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় প্রিমিয়ার এলপি গ্যাসের সাব ডিপো বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কর্মরত শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার ধনকুন্ডি এলাকায় সকাল থেকে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয় এবং বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
জানা যায়, এই সাব ডিপো থেকে কোম্পানির বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড ‘টোটাল গ্যাস’-এর তরলীকৃত গ্যাস বোতলজাত করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন এজেন্টের কাছে সরবরাহ করা হতো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে কর্মরত ফিলিং অপারেটর মাসুদ বিন রশিদ জানান, তাদের কর্মস্থল সাব ডিপোটি গোপনে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। এর প্রতিবাদেই প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস সাব ডিপোর কর্মচারীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। রমজান মাসের শুরুতে ডিপো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ফিলিং অপারেটর সামিদুল ইসলাম ও লোড-আনলোড কর্মী সবুজ মন্ডল জানান, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন এলপি গ্যাস বোতলজাত করে সরবরাহ করা হয়ে আসছে। শুরু থেকেই তারা এখানে কর্মরত। গ্যাস ফিলিং সাইডে ১৯ জন এবং অফিসে আরও ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। ডিপো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ২৯টি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে এবং আসন্ন রমজানে অনেক পরিবার অনাহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কর্মরত ফিলিং অপারেটর মাসুদ বিন রশিদসহ আরও পাঁচজন জানান, তিন দিন ধরে ডিপো বিক্রির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলেও তারা প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করেননি।
স্বাধীন হোসেনসহ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, শুরু থেকেই তারা এখানে কাজ করছেন। অনেকের বয়স হয়ে গেছে, এই বয়সে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়াও কঠিন। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস সাব ডিপোর ব্যবস্থাপক মাহফুজুল হক জানান, তারা প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন তরলীকৃত গ্যাস বিভিন্ন ওজনে বোতলজাত করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন। গত ডিসেম্বর মাসে সাব ডিপোটি প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস থেকে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কাছে বিক্রি হয়েছে। এখন থেকে ‘টোটাল গ্যাস’ বোতলজাত করে এজেন্টদের কাছে সরবরাহ করবে ওমেরা কোম্পানি। সাব ডিপোতে কর্মরতদের চাকরি না থাকলে কোম্পানির বিধি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।



