বগুড়ায় ভোটের টাকা লেনদেন ঘিরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
বগুড়ায় ভোটের টাকা লেনদেনের অভিযোগে জামায়াতের কর্মীদের আটককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার মধ্যরাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সোমবার রাতে গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে কয়েকজনের সমাগম দেখে তারা সেখানে যান। তাদের অভিযোগ, সেখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ দুইজনকে আটক করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও তার ভাই মারধরের শিকার হন। এ সময় মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বগুড়া–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা চালানো হয়নি। বরং বিএনপির মিছিল থেকে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তার দাবি, জামায়াতের কর্মী গালিবকে মারধর করে আহত করা হয়েছে এবং আরও দুই কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
বগুড়া–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশের সামনে কীভাবে এমন হামলা ঘটতে পারে, সেটাই বড় প্রশ্ন। এভাবে চলতে থাকলে ভোটের দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে— এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, মারামারির ঘটনা আগেই ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



