দেশে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে: চাকসু জিএস
কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
দেশে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিরোধী পক্ষের ওপর হামলার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরের আজিম উদ্দিন স্কুল মাঠে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদীর (রিকশা মার্কা) গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার দাবি, মাঠ পর্যায়ে অধিকাংশ সাংবাদিক আলাদা ক্যামেরা ব্যবহার করেন না; মোবাইল ফোনই তাদের প্রধান তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকও মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য ধারণ করেন। এ অবস্থায় মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত করতে পারে কিনা, সে বিষয়ে ইসির ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ প্রসঙ্গে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, সারাদেশে সাধারণ শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। এ বিষয়ে ইসির কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি। এছাড়া বিএনসিসি সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এর পেছনে কার নির্দেশনা রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি এক রাজনৈতিক নেতার পূর্বের “I have a plan” মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন।
বাউফলে বিরোধী পক্ষের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে সাঈদ বিন হাবিব নিন্দা জানান এবং অভিযোগ করেন, সেখানে গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। “যাদের হাতে মা-বোনেরা নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশও নিরাপদ নয়”—এ মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে আজিম উদ্দিন স্কুল মাঠ থেকে হাজারো জনতার একটি গণমিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোছাদ্দেক ভূঞা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুমিন শেরজাহান, এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্স, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



