রায়পুরায় গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬ এএম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় রফিকুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আমানউল্লাহ নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম সরকার ওই এলাকার হাজী মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তিনি চরমধুয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য লাভলী আক্তারের স্বামী এবং পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম ও আমানউল্লাহকে লক্ষ্য করে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে রফিকুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং আমানউল্লাহ আহত হন। রফিকুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আমানউল্লাহকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিহত রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন বিচার ও শালিশ-দরবারে অংশ নিতেন। সম্প্রতি একটি স্থানীয় শালিশকে কেন্দ্র করে এলাকার রিফাত, নয়নসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহতের ভাই মোস্তাকিম বলেন, আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিল। এলাকার মানুষের বিপদে সে সব সময় পাশে দাঁড়াত। তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হানিফা, রিফাত, নয়ন, জামালসহ কয়েকজন মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, রফিকুল ইসলামকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পিঠে গুলির ক্ষত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



