‘হাজরে আসওয়াদ’ কেন কোটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র?
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হাজরে আসওয়াদ— একটা কালো পাথর। তবুও এটি কোটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু… আমরা কি জানি? কেন এ আকর্ষণ?
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় প্রতিদিন এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়—কাবা শরিফে। সেই পবিত্র ঘরের এক কোণে স্থাপিত একটি কালো পাথর হাজরে আসওয়াদ যুগে যুগে মুসলমানদের আবেগ, ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রতীক হয়ে আছে। এটি কেবল একটি পাথর নয়; বরং সুন্নাহর স্মৃতি, তাওহিদের পরীক্ষাক্ষেত্র এবং উম্মাহর ঐক্যের নীরব সাক্ষী। কেন এই পাথরকে ঘিরে এত ভালোবাসা, এত আগ্রহ? এর পেছনের শিক্ষা ও সীমারেখা কী—সেটাই জানা ও বোঝা আমাদের জন্য জরুরি।
কাবা শরিফের পশ্চিম কোণায় স্থাপিত হাজরে আসওয়াদের দিক থেকেই তাওয়াফ শুরু হয় এবং এ কোনায় এসেই তাওয়াফ শেষ হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.), তার সাহাবীগণ এবং আজ পর্যন্ত অসংখ্য মুসলিম এই পাথরকে চুম্বন করেছেন। কিন্তু এখানে একটা গভীর শিক্ষা আছে—যেটা অনেকেই খেয়াল করি না।
হজরত ওমর (রা.) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করে বলেছিলেন— ‘আমি জানি তুমি শুধু একটি পাথর— তুমি উপকার বা ক্ষতি করতে পার না। যদি আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।’ তাই— হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা সুন্নাহ। কিন্তু তাওহিদ ঠিক রাখা— এর চেয়েও বেশি জরুরি।
আমরা এই পাথরকে ভালোবাসি। কারণ এটা সুন্নাহর স্মৃতি, উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু মনে রাখতে হবে— অতিরিক্ত আবেগ বা সম্মান দেখাতে গিয়ে যেন ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অতি ভালোবাসা কখনো কখনো অজান্তেই ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। সুন্নাহ আর তাওহিদের এই ভারসাম্য জরুরি— কারণ, ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য।
হাজরে আসওয়াদ— এই কালো পাথর সম্পর্কে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাহলো—
> জান্নাতের পাথর
হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে এসেছে। (তিরমিজি, নাসাঈ)
> রং পরিবর্তন
পাথরটি সাদা ছিল; মানুষের পাপের কারণে কালো বর্ণ ধারণ করেছে। (মুসনাদে আহমাদ)
> সাক্ষ্য দেওয়া
পাথরটি বিচারের দিন এটি তার স্পর্শকারীদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
> তাওয়াফের শুরু
এই পাথরকে চুম্বন, স্পর্শ কিংবা ইশারা করার মাধ্যমে তাওয়াফের শুরু হয়। (মুসলিম)
> গুনাহ মাফের উপায়
পাথরটি স্পর্শ করলে গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি)
> সতর্কতা
কাবা চত্বরে অত্যাধিক ভিড় কিংবা চাপের মধ্যে চুম্বন কিংবা স্পর্শ না করে দূর থেকে ইশারা করাই যথেষ্ট।
হাজরে আসওয়াদ আমাদের শেখায়—ইবাদতের সৌন্দর্য আবেগে নয়, বরং সঠিক আকিদা ও সুন্নাহর অনুসরণে। এই পাথরকে সম্মান করা ইমানের অংশ নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণই এর মূল কারণ। তাই ভালোবাসা থাকবে, সম্মান থাকবে—কিন্তু সীমা অতিক্রম নয়। হাজরে আসওয়াদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু কোনো বস্তু নয়; বরং একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। সুন্নাহ ও তাওহিদের এই ভারসাম্যই একজন মুমিনকে সঠিক পথে দৃঢ় রাখে।



