কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ’র বিচারক খাদিজা আক্তার এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো হয়। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল- ‘জালাল ভাইয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’ এবং ‘ভোট দিবো কীসে- ধানের শীষে’।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পাকুন্দিয়া রূপন দাস সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(খ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নোটিশে বলা হয়েছে, কেন এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- সে বিষয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বাজিতপুর চৌকি আদালতে নিকলী সিভিল জজের কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীনের আগমনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার বিধান থাকলেও তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগও করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সরকারি শিক্ষক আতাউর রহমান বকুল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান দিতে নির্দেশ দেন শিক্ষার্থীদের। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী শিক্ষার্থীদের বিএনপি প্রার্থীর নামে স্লোগান দিতে বলা হচ্ছে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘জালাল ভাইয়ের আগমন’ ‘শুভেচ্ছা ও স্বাগতম, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট’ ‘ধানের শীষের পক্ষে হোক’'আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভাট দিতাম' ‘ভোট দিবো কীসে ধানের শীষেসহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মইন উদ্দিন বলেন, আমাদের স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এ মুহূর্তে বিএনপির প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন ভোট চাওয়ার জন্য আমাদের স্কুলে আসেন। আমাদের কেউ তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসে নাই। ওই সময় আমিও স্কুলে ছিলাম না, বাহিরে গিয়েছিলাম। এসে শুনি স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ভোট চাইছে। এই পর্যন্ত আমি জানি।



