প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের, বাবার মরদেহ নেওয়া হলো কারাগারে
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থেকেই কানে আসে বাবার মৃত্যুর খবর। ইচ্ছে ছিল বাবার শেষ বিদায়ের আগে বাবার জানাজায় অংশ নেয়া। কিন্তু সে ইচ্ছে পূরণ হলো না ছেলে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলেনি মুক্তি। আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা কারাগারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫)। রাজনৈতিক মামলায় আটক থাকা অবস্থায় মারা যান তার বাবা ফুল মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির জন্য গতকালই আদালতে আবেদন করা হয়।
কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ। বাবার মরদেহ ছেলেকে দেখাতে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে।
আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার জানাজায় অংশ নিতে গতকালেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মরদেহের ওপর ঢলে পড়েন। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একটি রাজনৈতিক মামলায় মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নিহতের চাচা মতিউর রহমান বলেন, আমার ভাই মারা গেলে জেলখানায় থাকা ভাতিজাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত জামিন না মঞ্জুর করায় আমার ভাইয়ের মরদেহ জেলখানায় আনা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।



