Logo
Logo
×

সারাদেশ

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত, আহত ১০

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত, আহত ১০

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ আহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতরা পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে গোপনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধে নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এলাকায় এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।

এই বিরোধের জেরে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বালুরচর গ্রামের এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় এরশাদ গ্রুপের লোকজন হানিফ মাস্টারের লোকজনদের বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি করলে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় আগুনে ৪টি ঘর পুড়ে যায়।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না তাকে গুলি করে। আমরা কোনো দলের নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এদিকে সায়দাবাদ গ্রামের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শুধু আমাদের সায়দাবাদ গ্রামে বিভিন্ন সময় এসে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আমাদের গ্রামের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম প্রায় পুরুষ শূণ্য। আর এই সুযোগেই প্রতিপক্ষের লোকজন বালুচর গ্রাম থেকে এসে আমাদের গ্রামে ভোরে হামলা চালায়। এ হামলায় স্কুল শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আইন শৃংখলা বাহিনী যদি ওই গ্রামের অভিযান পরিচালনা করতো এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতো তবে হয়তো এমন দৃশ্য দেখতে হতো না। দু’গ্রামই শান্ত থাকতো। 

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ মুস্তাকিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।

ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়ন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন