Logo
Logo
×

সারাদেশ

তিন দফা দাবিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

তিন দফা দাবিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া কিংবা আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় নতুন করে মঙ্গলবার থেকে সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

৩ দফা দাবিগুলো হলো বদলিকৃতদের পুনর্বহাল, বিডাও বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণ, এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে না দেওয়া।

কর্মবিরতির প্রভাবে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর আগে সকালে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচির সময়সীমা ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হয়েছে।

স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ, সিসিটি, এনসিটি ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করছে।

এদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান। সেলিমুর রহমান বলেন, পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজগুলো অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল এনসিটিকে কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

আন্দোলনকারীরা এনসিটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, সকালে কিছু সময় সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালের জেটিতে সীমিত পরিসরে পণ্য ওঠানামা চলছিল। তবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ওই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কম্পিউটারাইজড টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্য ও কনটেইনার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন