ট্রেনে কলেজশিক্ষার্থীকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেনে ছিনতাইকালে এক কলেজশিক্ষার্থীকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা-পুলিশ।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে কুখ্যাত ছিনতাইকারী মেরাজ মিয়া (২৫) ও ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (২৪)।
পুলিশ জানায়, মেরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে ভৈরবের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (১৭)। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু গোধুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন এবং মুঠোফোনে মাকে বিষয়টি জানায়। তবে রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের অদূরে নিউটাউন এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আবু সুফিয়ানের বলে শনাক্ত করেন।
নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের বাদে করিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। তিনি ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় রোববার নিহতের বাবা আবু তাহের ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে কলেজশিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান নিহত হয়েছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বরেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



