২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে নেতাকর্মীদের ঢল ও কঠোর নিরাপত্তা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিভাগ সফরে আসছেন। এ উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে মহানগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের খুলনায় আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেক নেতাকর্মী রোববার রাতেই খুলনায় পৌঁছান।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, সোমবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে খুলনায় পৌঁছাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দুপুর ১২টায় প্রভাতী স্কুল মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। জনসভা শেষে দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে করে যশোরের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন। জনসভায় লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। বৃহত্তর খুলনার ১৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, খুলনার পাশাপাশি সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীরাও জনসভায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, একের পর এক কর্মসূচি ও টানা সফরের কারণে তারেক রহমান কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও খুলনার মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সফরে সম্মত হয়েছেন। সর্বোচ্চ উপস্থিতির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হবে।
খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রভাতী স্কুল মাঠের এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়। এটি খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের উন্নয়ন পরিকল্পনা শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠের আশপাশে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তারেক রহমানের যাতায়াতের পথ, সমাবেশস্থলের ভেতর ও বাইরে এবং নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব, সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। শহরের প্রবেশমুখগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, খুলনার ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না। তবে জনসমাগম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সমাবেশস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসী ও সমাবেশে আগতদের সহযোগিতা পেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



