১৯ বছর পর বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় ফিরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নিজের ঘরে এসে কী বলবো, নিজেই তাল হারিয়ে ফেলেছি। আমি ইমোশনাল হয়ে গেছি। ঘরের মানুষের কাছে বলবার কিছু নেই।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯ বছর আগে দেশে থাকার সময় বগুড়ার মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আজও তার মনে জ্বলজ্বল করছে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সরকার নির্ধারিত আইন ও নীতিমালার মধ্যেই কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বনানী-মাটিডালী সড়ক, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং গ্যাস সংযোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বগুড়া ছিল আমার কাছে একটি মডেল জেলা। বাকি ৬৩টি জেলা কিভাবে সাজানো যায়, তার পরিকল্পনাও করতাম বগুড়াকে কেন্দ্র করেই।
তার দাবি, সে সময় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে যা যা প্রয়োজন ছিল, তার সবই বগুড়ায় নিশ্চিত করা গিয়েছিল।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। এ জন্য সবাইকে আরও সচেতন ও সিরিয়াস হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এলাকার সন্তান কিংবা প্রার্থী—যে পরিচয়েই হোক, বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার সুযোগ প্রয়োজন। ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সবই করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার বগুড়াকে আবার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশই বঞ্চিত হয়েছে। তার অভিযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি; বরং মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
চাকরি মেধার ভিত্তিতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে, তবে অন্য কোনো জেলা যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ আমার কিছু দেওয়ার নেই, আমার কিছু চাওয়ার আছে—আপনাদের দোয়া চাই। স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে পাশে থাকলেই বাংলাদেশকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ার মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান। জনসভায় যোগ দিতে শহরে প্রবেশের সময় সড়কের দু’পাশে অপেক্ষারত হাজার হাজার মানুষের সালাম গ্রহণ করেন এবং হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মঞ্চে তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সংক্ষিপ্ত গণদোয়ায় অংশ নেন।
জনসভাকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এক নজর তারেক রহমানকে দেখতে আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদেও ভিড় করেন অনেকে, মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন উৎসুক জনতা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এতে বগুড়ার বাকি ছয়টি আসনের বিএনপি প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।



