রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা: ৯ বছর পর ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
চট্টগ্রামে আদালতের নির্দেশনার দুই সপ্তাহ পর রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে ৯ বছর আগে সংঘটিত ওই হামলার জন্য রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৬ নেতা-কর্মীকে দায়ী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের প্রথম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এই প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হওয়ায় গত ১১ জানুয়ারি আদালত দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার বাদী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, দ্রুত বিচার আইনে করা মামলাটিতে পুলিশ সবকটি—২৬ জন আসামিকেই অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী তারিখে শুনানি করবেন বলেও তিনি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ১৮ জুন। রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী বাজার এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা হয়। এতে মির্জা ফখরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ছয় নেতা আহত হন এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলার পর ত্রাণ কর্মসূচি বাতিল করে বিএনপি নেতারা চট্টগ্রাম শহরে ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ দেন।
সে সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী হামলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও রাঙ্গুনিয়ার তৎকালীন সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদকে দায়ী করেন। তবে হাছান মাহমুদ দাবি করেছিলেন, বিএনপি নেতাদের গাড়িবহরের ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন হামলা চালায়।
ঘটনার দুই দিন পর এনামুল হক বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পুলিশ তখন তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে আদালত মামলাটি খারিজ করেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিন্নাত আরা বেগমের আদালতে বাদীপক্ষ একটি রিভিশন মামলা করে। শুনানি শেষে আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ পুনঃতদন্ত করে নতুন এই প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও ২১ জন।



